গারদে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা, কাশ্মীরে পাঠানো হল ১০০ কোম্পানি আধা সেনা

২২ ফেব্রুয়ারি : শুক্রবার রাতে কাশ্মীরে নিজের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিককে। পাশাপাশি আটক করা হয় জামাত-ই-ইসলামি প্রধান আবদুল হামিদ ফায়াজ-সহ এক ডজন নেতাকে। তারপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে জারি করা হয় আর্জেন্ট নোটিস। তড়িঘড়ি বিমানে করে শ্রীনগরে নিয়ে যাওয়া হয় ১০০ কোম্পানি আধা সেনা। এদের মধ্যে রয়েছে সিআরপিএফ- ৪৫ কোম্পানি, বিএসএফ-৩৫ কোম্পানি, এসএসবি-১০ কোম্পানি, আইটিবিপি-১০ কোম্পানি। এদিকে পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে কাশ্মীর উপত্যকা। এদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ধরপাকড়ে যথারীতি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তাঁর বক্তব্য, জোর করে কোনও আদর্শকে মুছে ফেলা যায় না। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে ভোটের রাজনীতির জন্যই পাকপন্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মেহবুবা। এদিকে পুলিশ ও প্রশাসনের দাবি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ।

উল্লেখ্য, ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ে ধরে যাওয়ার সময় পুলওয়ামার কাছে সেনার বিশাল কনভয়ের ভিতরে ঢুকে যায় বিস্ফোরক বোঝাই আত্মঘাতী জঙ্গির গাড়ি। ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই শহিদ হন ৪২জন জওয়ান। পরেরদিন হাসপাতালে মৃত্যু হয় আরও ৭ জনের। দেশের ইতিহাসে পুলওয়ামা হামলা অন্যতম ভয়ংকর হামলা বলে চিহ্নিত হয়। শুধু বরফে মোড়া উপত্যকাই নয়, রক্তাক্ত হয় গোটা দেশ। সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহলে। তারপরই উপত্যকার বেশ কয়েকজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে রবিবার মিরওয়াইজ ওমর ফারুক, সৈয়দ আলি শাহ গিলানি-সহ ৬ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *