ভাইবোনকে অপহরণ, ১২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে নাটকীয় উদ্ধার

বিএনএ, বারাকপুর: মিথ্যা গল্প ফেঁদে একেবারে নাটকীয় কায়দায় টিউশন থেকে খুদে দুই ভাই-বোনকে অপহরণ করল দুষ্কৃতীরা। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বেলঘরিয়া থানার গ্রাহাম রোডে। অপহরণ করার পরই ফোনে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুষ্কৃতীরা। পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে চেয়েচিন্তে পরিবারের লোকজন ১২ লক্ষ টাকা জোগাড় করেন। তারপর অপহরণকারীদের কথা মতো শুক্রবার গভীর রাতে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকায় একটি ব্রিজের কাছে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে সাদা পোশাকের পুলিস ছিল। যদিও টাকা দেওয়া-নেওয়ার সময় তারা অনেকটা দূরে ছিল। ব্যাগ ভর্তি টাকা দিয়ে অপহরণকারীদের হাত থেকে দুই সন্তানকে পরিবারের লোকজন মুক্ত করে নিয়ে যান। বারাকপুর পুলিস কমিশনারেটের ডিসি (জোন-২) আনন্দ রায় বলেন, অভিযোগ হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু আমরা বলতে চাইছি না। 
পরিবার ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই খুদের মধ্যে একজনের বয়স ৯ বছর। সে বেসরকারি একটি স্কুলে ক্লাস টুয়ে পড়ে। আর একজনের বয়স ৫ বছর। সে নার্সারিতে পড়ে। তাদের বাবার নাম মহম্মদ এহসান। তাঁর নিজের চার চাকার একটি গাড়ি রয়েছে। গাড়ি চালিয়ে তিনি সংসার চালান। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির কাছে দুই ভাই-বোন টিউশন পড়তে গিয়েছিল। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ এক যুবক সেখানে গিয়ে দুই ভাই-বোনকে জানায়, বাবা দুর্ঘটনায় জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। মা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে যেতে হবে। সেই মতো অপরিচিত ওই যুবকের সঙ্গে দু’জনকে টিউশন থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 
ওদিকে টিউশন শেষ হওয়ার পরও ছেলেমেয়েরা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। তাঁরা সেখানে গিয়ে দু’জনের কথা জিজ্ঞাসা করেন। শিক্ষক তাঁদের সমস্ত বিষয়টি জানান। রাস্তার লোকজন জানান, রিকশ করে এক যুবককে বাচ্চা দু’টি নিয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা। বাবা মহম্মদ এহসান বলেন, রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ আচমকা আমার মোবাইলে অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ছেলেমেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। না হলে ছেলেমেয়েকে মুম্বই নিয়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় প্রতিবেশীদের সাহায্যে ১২ লক্ষ টাকা জোগাড় করতে পারি। সমস্ত বিষয়টি আমরা বেলঘরিয়া থানাকে জানাই। পুলিসের পক্ষ থেকে আমাদের সব রকমভাবে সাহায্য করা হয়। সাদা পোশাকে পুলিস আলাদা গাড়ি করে আমাদের সঙ্গে যায়। অন্য গাড়িতে চালক, আর আমি দু’জনে মিলে ওদের বলে দেওয়া জায়গাতে যাই। বেশ কিছুটা দূরে পুলিস দাঁড়িয়ে ছিল। প্রথমে ফাঁকা ব্রিজে একজন এসে নজরদারি চালিয়ে যায়। পরে, হনুমান টুপি পরে একজন আমার মেয়েকে নিয়ে আসে। পরে, ছেলেকে দেওয়ার পর ১২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ওদের নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *